ভর্তি চলছে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি টেকনোলজিতে ভর্তি চলছে

মানসম্মত কারিগরি শিক্ষায়
আপনার আগামী গড়ে তুলুন

৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স — BTEB অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান

ভর্তি তথ্য নোটিশ দেখুন
নোটিশ
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং পর্যন্ত ২০২৬-২৭ সেশনে সকল বিভাগে ভর্তিতে ৫০% ছাড়!!!   •  
১৫+
বছরের অভিজ্ঞতা
১০০০+
শিক্ষার্থী
৫০+
অভিজ্ঞ শিক্ষক
টেকনোলজি বিভাগ

আমাদের বিভাগসমূহ

৪টি অত্যাধুনিক টেকনোলজি বিভাগে সর্বোচ্চ মানসম্মত শিক্ষা

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এবং ডিমান্ডিং একটি কোর্স। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (4IR) এবং তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এই কোর্সের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (CST) হলো ৪ বছর (মোট ৮টি সেমিস্টার) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। সাধারণত এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো গ্রুপ থেকে ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ২.00 পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। ৪ বছরের এই কোর্সটি মোট ৮টি সেমিস্টারে বিভক্ত। প্রতি বছরের সিলেবাসে থিওরির পাশাপাশি প্র্যাকটিক্যাল বা ল্যাব ক্লাসের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। ১ম থেকে ৩য় সেমিস্টারে মূলত বেসিক সায়েন্স (গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন), ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান এবং কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়াবলি (যেমন: Office Applications, Basic Electronics, Computer Hardware), ৪র্থ থেকে ৭ম সেমিস্টার (কোর সাবজেক্ট) কম্পিউটার সায়েন্সের মূল বিষয়গুলো, যেমন: প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ (C, C++, Java, Python, Web Programming (HTML, CSS, PHP)), ডাটাবেজ ও নেটওয়ার্কিং (Database Management System (DBMS), Computer Networking, Data Communication), সফটওয়্যার ও আর্কিটেকচার (Software Engineering, Operating System, Data Structure & Algorithm, Microprocessor), আধুনিক প্রযুক্তি (Cyber Security, Graphics Design, Cloud Computing, IoT (Internet of Things) সম্পর্কে শেখানো হয়। ৮ম সেমিস্টার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং) হলো কোনো বাস্তব প্রতিষ্ঠানে বা আইটি কোম্পানিতে ৩ থেকে ৪ মাসের ইন্টার্নশিপ (Industrial Training) করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করে। ডিপ্লোমা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার চমৎকার সুযোগ রয়েছে। DUET (ডুয়েট): ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) থেকে ডিপ্লোমাধারীরা সরাসরি বিএসসি (B.Sc in CSE) করার সুযোগ পান। দেশের প্রায় সব নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যেমন: আহসানউল্লাহ, ড্যাফোডিল, নর্থ সাউথ ইত্যাদি) ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ৩ বা সাড়ে ৩ বছরে B.Sc শেষ করা যায়। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ডিপ্লোমা ক্রেডিটের মূল্যায়ন করে বিএসসি করার সুযোগ দেওয়া হয়। কম্পিউটার প্রযুক্তির পরিধি প্রতিদিন বাড়ছে, তাই এই সেক্টরে চাকরির অভাব নেই। সফলভাবে কোর্স শেষ করে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব: • বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও ব্যাংকে সহকারী প্রোগ্রামার বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (আইটি) পদে। • বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিটিসিএল (BTCL), ডেস্কো, ডিপিডিসি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে আইটি টেকনিশিয়ান বা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। • সফটওয়্যার ডেভেলপার / প্রোগ্রামার: কোডিং ও সফটওয়্যার তৈরিতে দক্ষ হলে। • ওয়েব ডেভেলপার ও ডিজাইনার: ওয়েবসাইট তৈরি এবং মেইনটেইন্যান্সের কাজে। • নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার: কর্পোরেট অফিস বা ISP (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) কোম্পানিতে নেটওয়ার্ক সেটআপ ও সিকিউরিটির কাজে। • ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (DBA): ব্যাংক বা বড় প্রতিষ্ঠানের ডাটা সুরক্ষায়। • আইটি সাপোর্ট ও হার্ডওয়্যার টেকনিশিয়ান: যেকোনো কোম্পানির কম্পিউটার ও ল্যাব ম্যানেজমেন্টে। ডিপ্লোমা চলাকালীন কেউ যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, বা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের কাজ ভালোভাবে শিখে নেয়, তবে গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসগুলোতে (যেমন: Upwork, Fiverr) ফ্রিল্যান্সিং করে স্বাবলম্বী হতে পারে। এছাড়া নিজের আইটি ফার্ম বা স্টার্টআপ খোলার সুযোগ তো রয়েছেই। ডিপ্লোমায় শুধু সার্টিফিকেটের জন্য পড়লে ভালো ক্যারিয়ার গড়া কঠিন। আইটি সেক্টরে টিকে থাকতে হলে স্কিল বা দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। তাই • প্রথম বর্ষ থেকেই যেকোনো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ (যেমন: Python বা Java) খুব ভালোভাবে শিখুন। • একাডেমিক ল্যাব ক্লাসের পাশাপাশি নিজেরা ছোট ছোট প্রজেক্ট (যেমন: ওয়েবসাইট বা অ্যাপ) তৈরি করার চেষ্টা করুন। • সময়ের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তি (যেমন: AI, Data Science) সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

বিস্তারিত
সিভিল টেকনোলজি

৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে পরিচালিত সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় এবং ডিমান্ডিং একটি টেকনিক্যাল কোর্স। আবাসন, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট এবং বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের মূল কারিগর হলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। একে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের "মাদার ব্রাঞ্চ"-ও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে সিভিল টেকনোলজি (CT) হলো ৪ বছর (মোট ৮টি সেমিস্টার) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। সাধারণত এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো গ্রুপ থেকে ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ২.00 পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি প্রজেক্ট ডিজাইন ও ফিল্ডওয়ার্ক বা মাঠপর্যায়ের কাজের ওপর অনেক বেশি জোর দেওয়া হয়। • ১ম থেকে ৩য় সেমিস্টার (ফাউন্ডেশন): এই সময়ে বেসিক সায়েন্স (ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ) এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাথমিক বিষয় যেমন: Civil Engineering Materials (ইট, বালু, সিমেন্ট, রড ইত্যাদির পরিচিতি), Engineering Drawing এবং Basic Surveying শেখানো হয়। • ৪র্থ থেকে ৭ম সেমিস্টার (কোর সাবজেক্ট): এই সময়ে মূল ও অ্যাডভান্সড সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়গুলো শেখানো হয়। যেমন: o Surveying (জরিপ বিজ্ঞান): জমি ও দূরত্বের সঠিক পরিমাপ পদ্ধতি। o Estimating & Costing: যেকোনো নির্মাণ কাজের খরচ এবং কাঁচামালের হিসাব বের করা। o Theory of Structures & RCC Design: রড এবং কনক্রিটের সঠিক অনুপাত এবং ভবনের লোড বা ওজন বহন ক্ষমতা ডিজাইন করা। o Transportation & Geotechnical Engineering: রাস্তাঘাট, হাইওয়ে তৈরি এবং মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা (Soil Test) পদ্ধতি। o Hydraulics & Environmental Engineering: পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বাঁধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়। o Computer Aided Design (CAD): অটোক্যাড সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভবনের ২ডি ও ৩ডি ডিজিটাল নকশা করা। • ৮ম সেমিস্টার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং): বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৬ মাসের জন্য কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, সরকারি বা বেসরকারি কনস্ট্রাকশন প্রজেক্টে ইন্টার্নশিপ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। সিভিল টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের ধারণা দিতে বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে হাতে-কলমে কাজ শেখানো হয়: • সিভিল উড ও রাজমিস্ত্রি শপ: গাঁথুনি এবং কাঠের কাঠামোগত প্রাথমিক ধারণা। • সার্ভেইং শপ: লেভেলিং এবং থিওডোলাইট বা আধুনিক টোটাল স্টেশন (Total Station) দিয়ে মাঠ জরিপ। • টেস্টিং ল্যাব: সিমেন্ট, ইটের শক্তি পরীক্ষা এবং রডের টান সহ্য করার ক্ষমতা (Tensile Test) যাচাই করা। • ক্যাড (CAD) ল্যাব: কম্পিউটারে ডিজিটাল আর্কিটেকচারাল এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইন তৈরি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্র অনেক বড়। ডিপ্লোমা শেষ করে সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরেই উপ-সহকারী প্রকৌশলী (Sub-Assistant Engineer) বা ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যায়। • সরকারি সেক্টর: এলজিইডি (LGED), পিডব্লিউডি (PWD), ওয়াসা (WASA), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD), বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB), বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) এবং বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা। • বেসরকারি সেক্টর: দেশের নামকরা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি (যেমন: আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, কনকর্ড, বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস - bti ইত্যাদি) এবং বড় বড় ডেভেলপমেন্ট ফার্মে সাইট ইঞ্জিনিয়ার বা প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে। • মেগা প্রজেক্ট: চলমান বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট যেমন—মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, বিভিন্ন টানেল ও ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে প্রচুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রয়োজন হয়। • কনসালটেন্সি ও ব্যবসা: অভিজ্ঞতার পর নিজে ড্রয়িং, ডিজাইন, এস্টিমেটিং এবং কনস্ট্রাকশন ফার্ম বা থ্রিডি থিম মেকিংয়ের ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থী সহজেই বিএসসি (B.Sc) ডিগ্রি নিতে পারেন: • DUET (ডুয়েট): ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) থেকে সরাসরি বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং করার সুযোগ রয়েছে, যা ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়:IEB (Institution of Engineers, Bangladesh) অনুমোদিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সান্ধ্যকালীন বা রেগুলার শিফটে ৩ থেকে ৩.৫ বছরে B.Sc in Civil Engineering সম্পন্ন করা যায়।

বিস্তারিত
আর্কিটেকচার টেকনোলজি

৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন আর্কিটেকচার টেকনোলজি হলো বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে পরিচালিত একটি অত্যন্ত সৃজনশীল, নান্দনিক এবং চাহিদাসম্পন্ন টেকনিক্যাল কোর্স। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং যদি একটি ভবনের হাড়-মাংস বা কাঠামো তৈরি করে, তবে আর্কিটেকচার বা স্থাপত্যবিদ্যা সেই ভবনের রূপ, নান্দনিকতা, ভেতরের ফাঁকা জায়গার সঠিক ব্যবহার (Space Management) এবং বাহ্যিক সৌন্দর্য নির্ধারণ করে। সহজ কথায়, এটি শিল্পকলা (Art) এবং প্রকৌশলের (Engineering) একটি চমৎকার মিশ্রণ। নিচে আর্কিটেকচার টেকনোলজির ভর্তি যোগ্যতা, সেমিস্টার প্ল্যান, ল্যাব এবং ক্যারিয়ারের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে আর্কিটেকচার টেকনোলজি (ArT) হলো ৪ বছর (মোট ৮টি সেমিস্টার) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। সাধারণত এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো গ্রুপ থেকে ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ২.00 পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে সাধারণ পড়াশোনার চেয়ে স্কেচিং, ড্রয়িং, থ্রিডি মডেলিং এবং সৃজনশীল ডিজাইনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। • ১ম থেকে ৩য় সেমিস্টার (ফাউন্ডেশন ও বেসিক ড্রয়িং): এই সময়ে বেসিক সায়েন্স ও গণিতের পাশাপাশি ড্রয়িংয়ের প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হয়। যেমন: Basic Design, Architectural Drafting, Freehand Drawing ও History of Architecture (পৃথিবীর বিখ্যাত স্থাপত্যের ইতিহাস)। • ৪র্থ থেকে ৭ম সেমিস্টার (কোর আর্কিটেকচার): এই সময়ে মূলত প্রফেশনাল আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের বিষয়গুলো শেখানো হয়। যেমন: o Architectural Design (স্টুডিও ওয়ার্ক): বাসা-বাড়ি, কমার্শিয়াল বিল্ডিং বা হাসপাতালের লে-আউট ও নান্দনিক নকশা তৈরি। o Interior & Landscape Design: ভবনের ভেতরের সাজসজ্জা (Interior) এবং বাইরের পরিবেশ বা বাগানের নকশা (Landscape)। o Building Services: একটি ভবনের ভেতরের প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক লাইন, অগ্নি-নির্বাপণ ও এয়ার কন্ডিশনিং (HVAC) ব্যবস্থার পরিকল্পনা। o Computer Aided Design (CAD) & 3D Modeling: অটোক্যাড এবং বিভিন্ন থ্রিডি সফটওয়্যারের ব্যবহার। o Building Construction & Estimating: নির্মাণ কাজের পদ্ধতি এবং খরচের হিসাব। • ৮ম সেমিস্টার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং): বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৬ মাসের জন্য কোনো স্বনামধন্য আর্কিটেকচারাল ফার্ম বা কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ করে। আর্কিটেকচারের শিক্ষার্থীদের মূল কাজই হয় ল্যাব বা স্টুডিওতে। এর প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো: • ড্রয়িং স্টুডিও (Drawing Studio): যেখানে বিশেষ ড্রয়িং টেবিল ও টি-স্কয়ার ব্যবহার করে বড় বড় শিটে নিখুঁত নকশা (Drafting) করা শেখানো হয়। • মডেল মেকিং ল্যাব (Model Making Lab): থার্মোকল, কর্কশিট, কাঠ বা বোর্ড কেটে ভবনের ছোট বাস্তব রূপ বা মিনিএচার মডেল তৈরি করা হয়। • কম্পিউটার গ্রাফিক্স ল্যাব: AutoCAD, SketchUp, 3ds Max, Revit এবং Photoshop-এর মতো প্রফেশনাল সফটওয়্যারগুলোর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। শহরায়ন এবং আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে বর্তমানে আর্কিটেক্টদের চাহিদা আকাশচুম্বী। ডিপ্লোমা শেষে সাধারণত উপ-সহকারী স্থপতি/প্রকৌশলী (Sub-Assistant Architect) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যায়। প্রধান কাজের ক্ষেত্রসমূহ: • সরকারি সেক্টর: পিডব্লিউডি (PWD), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK), সিডিএ (CDA), এলজিইডি (LGED), বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। • আর্কিটেকচারাল ও ইন্টেরিয়র ফার্ম: দেশের শত শত বেসরকারি আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্মে জুনিয়র আর্কিটেক্ট বা ক্যাড (CAD) ডিজাইনার হিসেবে। • রিয়েল এস্টেট কোম্পানি: বড় বড় আবাসন কোম্পানিগুলোতে (যেমন: শান্তা হোল্ডিংস, কনকর্ড, এ্যাসুরেন্স ইত্যাদি) আর্কিটেকচারাল টিম মেম্বার হিসেবে। • ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট জব: ফাইভার বা আপওয়ার্কের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে থ্রিডি ফ্লোর প্ল্যান, এক্সটেরিয়র ডিজাইন এবং ইন্টেরিয়র রেন্ডারিং করে বিপুল অর্থ আয় করা সম্ভব। • নিজস্ব ব্যবসা: অভিজ্ঞতার পর নিজে একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম বা আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্ম খুলে স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়। ডিপ্লোমা ইন আর্কিটেকচার শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার দারুণ সুযোগ রয়েছে: • DUET (ডুয়েট): ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) থেকে সরাসরি বি.আর্ক (B.Arch - Bachelor of Architecture) ডিগ্রি নেওয়া যায়। • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়: দেশের বিভিন্ন নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (যেমন: ব্র্যাক, আহসানউল্লাহ, ড্যাফোডিল ইত্যাদি) থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে B.Arch ডিগ্রি সম্পন্ন করা যায়।

বিস্তারিত
ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি

৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে পরিচালিত অন্যতম প্রধান, শক্তিশালী এবং চিরসবুজ (Evergreen) একটি টেকনিক্যাল কোর্স। আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ, আর এই বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব পালন করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা। একেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম "মাদার ব্রাঞ্চ" বলা হয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর অধীনে ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি (ET) হলো ৪ বছর (মোট ৮টি সেমিস্টার) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। সাধারণত এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো গ্রুপ থেকে ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ২.00 পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে শিক্ষার্থীদের বিদ্যুতের প্রাথমিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে আধুনিক পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন সম্পর্কে বিস্তারিত এবং ব্যবহারিক জ্ঞান দেওয়া হয়। • ১ম থেকে ৩য় সেমিস্টার (ফাউন্ডেশন): এই সময়ে বেসিক সায়েন্স (ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ) এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাথমিক বিষয় যেমন: Electrical Circuits (AC/DC), Electrical Appliances এবং Engineering Drawing শেখানো হয়। • ৪র্থ থেকে ৭ম সেমিস্টার (কোর সাবজেক্ট): এই সময়ে মূলত অ্যাডভান্সড ইলেকট্রিক্যাল এবং পাওয়ার সিস্টেমের বিষয়গুলো শেখানো হয়। যেমন: o Electrical Machines: ট্রান্সফরমার, ডিসি/এসি মোটর এবং জেনারেটরের গঠন ও কার্যপ্রণালী। o Power System (Generation, Transmission & Distribution): বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, গ্রিড লাইন এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা। o Switchgear & Protection: বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সার্কিট ব্রেকার, রিলে এবং সাব-স্টেশন ডিজাইন। o Industrial Automation & PLC: পিএলসি (Programmable Logic Controller) এর মাধ্যমে কলকারখানার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। o Power Electronics: বিদ্যুৎ শক্তি রূপান্তর ও নিয়ন্ত্রণের আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস। • ৮ম সেমিস্টার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং): বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৪ মাসের জন্য কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট, সাব-স্টেশন বা বড় শিল্পকারখানায় ইন্টার্নশিপ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির মূল ভিত্তিই হলো ল্যাব। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সাথে কাজ শেখানোর জন্য বিভিন্ন আধুনিক ল্যাবরেটরি রয়েছে: • ওয়ারিং শপ (Wiring Shop): বাসা-বাড়ি এবং কলকারখানার বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপদ লে-আউট ও কানেকশন। • মেশিন ল্যাব (Machine Lab): মোটর, জেনারেটর চালানো এবং ট্রান্সফরমারের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা। • পাওয়ার সিস্টেম ও সাব-স্টেশন ল্যাব: হাই-ভোল্টেজ লাইনের সুইচগিয়ার, প্রটেকশন রিলে এবং ট্রান্সফরমার সাব-স্টেশন অপারেশন। • পিএলসি ও অটোমেশন ল্যাব (PLC Lab): বর্তমান যুগের আধুনিক ফ্যাক্টরির স্বয়ংক্রিয় মেশিন কন্ট্রোলিং সিস্টেমের কোডিং ও সেটআপ। বিদ্যুৎ ছাড়া বর্তমান পৃথিবী অচল, তাই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরির ক্ষেত্র সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরেই অত্যন্ত বিশাল। ডিপ্লোমা শেষে সাধারণত উপ-সহকারী প্রকৌশলী (Sub-Assistant Engineer) হিসেবে যোগ দেওয়া যায়। প্রধান কাজের ক্ষেত্রসমূহ: • সরকারি বিদ্যুৎ সেক্টর: পিডিবি (PDB), ডেসকো (DESCO), ডিপিডিসি (DPDC), ডব্লিউজেডपिডিসি (WZPDCL), নেসকো (NESCO), পিজিসিবি (PGCB), ইজিসিবি (EGCB), আরইবি (REB / পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) এবং বিপিডিবি (BPDB)। • অন্যান্য সরকারি সেক্টর: বাংলাদেশ রেলওয়ে, ওয়াসা (WASA), এলজিইডি (LGED), পিডব্লিউডি (PWD), বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক ও মন্ত্রণালয়। • বেসরকারি ও শিল্প কারখানা: দেশের যেকোনো বড় ডাইং, টেক্সটাইল, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, স্টিল মিল, ও ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে সাব-স্টেশন বা মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। • রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন: বহুতল ভবনের বৈদ্যুতিক ডিজাইন, লিফ্ট ও সাব-স্টেশন স্থাপন এবং সুপারভিশন। • উদ্যোক্তা বা ব্যবসা: জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, আইপিএস (IPS) এবং হাউজ ওয়ারিং সাপ্লাইয়ের ব্যবসা বা সার্ভিসিং সেন্টার খোলার দারুণ সুযোগ থাকে। ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর বিএসসি (B.Sc) ডিগ্রি অর্জনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে: • DUET (ডুয়েট): ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) থেকে সরাসরি বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) করা যায়। এটি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়: IEB অনুমোদিত দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা হোল্ডারদের জন্য বিশেষ ছাড়ে (ক্রেডিট ট্রান্সফার) ৩ থেকে ৩.৫ বছরে B.Sc in EEE সম্পন্ন করা যায়।

বিস্তারিত

সংবাদ ও ঘটনা

সব দেখুন
Jun 04, 2026
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু

ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও শর্ট কোর্সে অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে।

May 28, 2026
নতুন কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন

আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ একটি নতুন কম্পিউটার ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে।

May 19, 2026
শিল্প-কারখানা শিক্ষা সফর সম্পন্ন

সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা শিল্প-কারখানা পরিদর্শন করেছে।

কেন আমাদের বেছে নেবেন?

BTEB অনুমোদিত

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত মানসম্মত কারিকুলাম।

আধুনিক ল্যাব

প্রতিটি বিভাগে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি।

ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ

শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সাথে চাকরির সুযোগ।

আমাদের অবস্থান

আমিন প্লাজা, একাডেমি রোড, ফেনী